বাবার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল ছেলেদের বউদের একদিন হেলিকপ্টারে করে ঘরে তোলার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজেদের পরিশ্রমের উপার্জনে ব্যতিক্রমী আয়োজন করলেন তিন ছেলে। হেলিকপ্টারে বউ বাড়িতে এনে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন তারা। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ঢাকেরহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হেলিকপ্টারটি গ্রামের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করলে তা দেখতে শতাধিক মানুষের ঢল নামে। হেলিকপ্টারে ছিলেন কৃষক হারুন সরদারের ছোট ছেলে জাহিদুল ইসলামের নববধূ এবং পরিবারের অন্য দুই পুত্রবধূ। তাদের বরণ করে নিতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন স্বজন ও গ্রামবাসী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কৃষক হারুন সরদারের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল একদিন তার ছেলেদের নববধূদের হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে আনা হবে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাবার সেই ইচ্ছাকে নিজেদের দায়িত্ব ও স্বপ্ন হিসেবে গ্রহণ করেন তার তিন ছেলে। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে অবশেষে তারা বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নববধূ নিয়ে হেলিকপ্টার অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। কেউ হেলিকপ্টার একনজর দেখতে, আবার কেউ এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের সাক্ষী হতে। পরে ঢাক-ঢোলের বাদ্য, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নববধূদের বরণ করে নেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়। কৃষক বাবার স্বপ্নপূরণের এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কৃষক হারুন সরদার বলেন, জীবনে অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ছেলেদের বউদের হেলিকপ্টারে ঘরে তোলার স্বপ্নটা ছিল সবচেয়ে আলাদা। কখনো ভাবিনি আমার ছেলেরা সত্যিই সেই স্বপ্ন পূরণ করবে। আজ আমি অনেক খুশি।
ছেলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাবা সারা জীবন কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। বাবার মুখে বহুবার শুনেছি তিনি ছেলেদের বউদের হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে আনতে চান। তাই আমরা তিন ভাই সিদ্ধান্ত নিই, যেভাবেই হোক বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করব। আজ বাবার হাসিমুখ দেখেই আমাদের সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে।
নববধূ আরিফা ইসলাম নুপুর বলেন, ‘এভাবে হেলিকপ্টারে করে শ্বশুরবাড়িতে আসব, কখনো কল্পনাও করিনি। পরিবারের সবাই যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছে, তা আমার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলামিন বলেন, গ্রামে এমন আয়োজন আগে কখনো দেখিনি। এটি শুধু একটি বিয়ে নয়, বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মানের অনন্য উদাহরণ।