শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রী বাস। এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ এবং রাজবাড়ি জেলা প্রশাসন। বেলা বারোটা নাগাদ বাসটিকে নদী থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
নৌ পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পরই ডুবে যাওয়া বাসটির চালক এবং তার সহযোগীকে উদ্ধার করে দৌলতদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই ফেরিতে ওঠার সময় ঘাট এলাকায় যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছিল প্রশাসন।
দুর্ঘটনা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
নৌ পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল দশটার একটু আগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রীদেরকে ফেরিতে ওঠার আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আসছে, কাজ শুরু করেছে। আমার নৌ-পুলিশ উপর থেকে যাত্রীদেরকে নামিয়ে দিয়েছিল। ড্রাইভার, হেলপার, সুপারভাইজারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এ সময় ফেরিতে ওঠার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী না থাকায় বড়ো ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানান রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, ‘বাসটিতে থাকা ৩৮ জন যাত্রীকে ফেরিঘাটেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে, এখনও কোনো হতাহতের খবর নেই। কারো নিখোঁজ থাকার দাবিও প্রশাসনে কাছে কেউ করেনি।’
এদিকে, প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে বেলা বারোটার দিকে বাসটিকে পানি থেকে টেনে তোলে উদ্ধারকারীরা।
রাজবাড়ী ফায়ারসার্ভিসের কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক এবং তার সহকারিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। জীবিত বা মৃত আর কাউকে বাসের ভেতরে পাওয়া। তিনি বলেন, ‘কম সময়ের মধ্যেই আমরা বাসটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। বাসের ভেতরে কিংবা অন্য কোথাও কেউ নিখোঁজ আছে এমন অভিযোগ নেই।’
শুক্রবার সকালে ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস। সকাল দশটার কিছু আগে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় পদ্মা নদীতে।
বাসের যাত্রী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরিতে ধাক্কা খায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি। পানিতে পড়ার পর মুহূর্তেই বাসটি তলিয়ে যায়। এ সময় বাসের চালক ও তার সহকারী পানিতে ভেসে উঠলে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যাত্রীদেরকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও নিশ্চিত করেন বাসটির একজন যাত্রী। স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী জানান, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামে একটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় যাত্রীবাহী বাসটি। মূলত ফেরিতে ওঠার সময় ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির র্যামে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান।
দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস এবং বিআইডব্লিউটিএ এর ডুবুরি দল। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।