বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে বিভিন্ন এলাকায় উড়ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলছে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক।
তবে এর আগেরবারের মতো এবারও সিরাজগঞ্জ শহরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পরিবহন ব্যবসায়ী লিটন সরকারের ‘ব্রাজিল বাড়ি’। ব্রাজিল দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের বাড়িটিকে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙে সাজিয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, লিটন সরকারের দ্বিতল বাড়িটির বাইরের পুরো অংশ হলুদ ও সবুজ রঙে রাঙানো। বাড়ির দেয়ালজুড়ে রয়েছে ব্রাজিলের পতাকার নকশা। এমনকি দোতলায় ওঠার সিঁড়ির দুই পাশেও শোভা পাচ্ছে ব্রাজিলের পতাকা। তবে বাড়ির প্রধান ফটকটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল-সবুজ রঙে সাজানো হয়েছে।
বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দুই দেশের পতাকাসংবলিত করমর্দনের একটি প্রতিকৃতিও আঁকা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
ব্যতিক্রমী এই বাড়িটি ২০১৮ সালে ব্রাজিলের পতাকার আদলে সাজিয়েছেন লিটন সরকার। বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই ছবি তুলছেন, কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করছেন।
ব্রাজিল বাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়িটির নকশা ও রঙের সমন্বয় সত্যিই দৃষ্টিনন্দন।
ব্রাজিল সমর্থক ইমরান শেখ বলেন, ব্রাজিল একটি শক্তিশালী দল। এবারও তারা ভালো খেলবে বলে আশা করছি। লিটন সরকারের এই বাড়িটি ব্রাজিলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
স্কুলছাত্র রায়হান বলেন, ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা দেখি। বিশ্বকাপ এলেই অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। বাড়িটি দেখে খুব ভালো লেগেছে।
ব্রাজিল বাড়ির মালিক লিটন সরকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা দেখি এবং ভালোবাসি। সেই ভালোবাসা থেকেই বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙে সাজিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, ব্রাজিল এবারও ভালো করবে এবং হেক্সা মিশন অর্জন করবে। আমার খুবই ইচ্ছে আমি একবার হলেও মাঠে বসে ব্রাজিলের খেলা দেখব।
বিশ্বকাপকে ঘিরে সিরাজগঞ্জে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলপ্রেমী লিটন সরকারের এই ‘ব্রাজিল বাড়ি’ হয়ে উঠেছে ফুটবলভক্তদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।