ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অসুস্থ অবস্থায় এক তরুণীকে (১৫) উদ্ধার ও তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) ভোরে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজার এলাকায় একটি গোডাউন থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তরুণীকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
আটকরা হলেন- কালিতলা বাজার এলাকার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলাম (২২), মিন্টুর ছেলে রনি (২১) এবং রহমান মাজেদুরের ছেলে মাসুদ (২২)।
পুলিশ জানিয়েছে, সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় আটক আসামি রনির বাবার গোডাউন ঘরের সামনে দিয়ে ওই তিন যুবকের মোটরসাইকেলের সন্দেহজনক চলাচল দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই গোডাউন ঘরে অভিযান চালান। এসময় গোডাউন ঘর থেকে অসুস্থ অবস্থায় ১৫ বছরের এক তরুণীকে উদ্ধার করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করে বলেন, সপ্তাহখানেক আগে তার বান্ধবীর মাধ্যমে অভিযুক্ত তামিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তামিম তাকে শনিবার ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন স্থানে ঘুরার পর কৌশলে তাকে কালিতলা বাজারের একটি নির্জন গোডাউন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তামিমসহ তার অন্য দুই বন্ধু রনি ও মাসুদকে ডেকে এনে তিনজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়েটি তার এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রাতে ফোনে তার পরিবারকে জানায় যে, অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় সেই বান্ধবীর বাসাতেই থাকবেন। পরবর্তীতে এ ঘটনার খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।
এদিকে এই ঘটনার পর ওই তরুণীর বাবা সদর থানায় তিন যুবককে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে তামিমসহ তিন যুবককে আটক করেছি। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’