২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের এক দিন পরও হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবায় আসেনি কোনো পরিবর্তন। সবগুলো ওয়ার্ডে দেখা গেছে আগের চিত্র। অনেক ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসকের দেখাও মেলেনি। এরই মধ্যে মৌখিকভাবে তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জেলার সিভিল সার্জন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মঙ্গলবার দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করেন তিনি। এরপর দালাল ও বহিরাগতদের তোপের মুখে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন তিনি। এ ছাড়া হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে।
এরপর সরজমিনে বুধবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে এখনো ময়লা পানি ও বর্জ্য পড়ে আছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, আজও বাড়তি টাকা না দিলে মিলছে না চিকিৎসাসেবা। বেড নিতে দিতে হচ্ছে টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সরকারি চাকরিপ্রার্থী বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে বলেন, এক্স-রে করাতে সরকারি ফি ২০০ টাকা হলেও তাদের থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগদানের জন্য মেডিকেল রিপোর্ট করাতে হাসপাতালে এসেছেন। এক্স-রের পাশাপাশি অন্যান্য টেস্ট করাতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান তারা। এ বিষয়ে দুজন ভুক্তভোগী সরাসরি সিভিল সার্জনের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান। পরে তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি খোঁজ নিলে অতিরিক্ত টাকাগুলো তাদের ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
অন্যদিকে হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে গত তিন দিন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেননি। মেডিকেল অফিসাররাই দিনে একবার রোগীদের দেখতে যান। সারা দিনে রোগীরা আর কোনো চিকিৎসকের দেখা পান না।
জসিম হোসেন নামের এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি চিকিৎসাসেবা নিতে। গরমে অনেক কষ্ট করে আমাদের এখানে থাকতে হয়। কিন্তু এখানে ডাক্তারদের দেখা পাওয়া যায় না। দিনে একবার মেডিকেল অফিসাররা আসেন। অন্য সময় আমাদের রোগীদের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের আর পাওয়া যায় না। সবাই বাহিরে চেম্বার করা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। আমরা রোগীদের চিকিৎসার কথা ভেবে ভয়ে কিছু বলতেও পারি না।’
কোম্পানীগঞ্জের চর বালুয়া থেকে আসা আবু জাকের তার চার বছরের ছেলে জোবায়েরকে তিন দিন আগে হামের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল বেলা ১১টায় একবার ডাক্তার এসেছিল, আজ সকাল ১০টা বাজে, এখন পর্যন্ত কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি।’
হাসপাতালে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো লিখিত কোনো অর্ডার পাইনি। তবুও আমি আজ সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে এখানের চিকিৎসক সবার সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন বিভাগে গিয়েছি এবং পুরো হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালে জনবল সংকট যেমন রয়েছে, পাশাপাশি অনেক ধরনের অনিয়মও রয়েছে। আমরা অনিয়মগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি এবং জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’