গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের নিশিন্দাহাটি এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবাধে চলছে মাটি কাটার উৎসব। রাতভর মাটি কেটে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে কৃষিজমি, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় শফিকুল ইসলাম ও মো. রাশেদের নেতৃত্বে চলছে এই মাটি বিক্রি। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কোথাও কোথাও প্রায় ৫০ ফুটের বেশি গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে আশপাশের জমিও রয়েছে ঝুঁকিতে। যেকোনো সময় সেই জমির মাটিও ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিশিন্দাহাটির কুয়াডাঙ্গা বিলসংলগ্ন এসব জমিতে প্রতি বছর বোরো ও আমনের ভালো ফলন হয়। বিলের কিছু অংশ সারা বছর পানিতে তলিয়ে থাকায় দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব জমি থেকে মাটি কাটার কারণে কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
এদিকে এই মাটির কাটার কারণে নিজেদের ক্ষতি হলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস করছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, গভীর গর্ত করে মাটি কাটার কারণে তার জমির পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাধ্য হয়ে তাকেও নিজের জমির মাটি বিক্রি করতে হবে, কারণ সেখানে আর চাষাবাদ সম্ভব হবে না।
আরেক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ‘তারা প্রভাবশালী। আমাদের কিছু বলার নাই। প্রতিবাদ করলেই বিপদে পড়তে হয়।’
স্থানীয় গাড়িচালক আলম মিয়া বলেন, অতিরিক্ত বোঝাই ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট দ্রুত ভেঙে পড়ছে। ধুলাবালি ও কাদার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির দলীয় লোক। এই জমিগুলো পতিত, এখানে কোনো ফসল হয় না। তাই মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। প্রশাসনও বিষয়টি জানে।’
অপর অভিযুক্ত রাশেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।