নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় স্বামী ও ৩ সন্তান রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে মসজিদের ইমামের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৭নং হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারি বাড়িতে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে নিশাত আক্তারের (৩০) স্বামী কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে নিশাত তার ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনের (২৬) সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। রিয়াজ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানাধীন ৯নং করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে যায়।
নিশাতের মা অভিযোগে দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।
নিশাত নিখোঁজের পর তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।
নোয়াখালীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা চলতি বছরের গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পরেও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’