মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাড়ির সামনে থেকে জাহেদা বেগম নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার করিমপুর চা-বাগান বস্তির সোনাঠিকা এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহেদা বেগমের সাত বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে নিহত জাহেদা বেগমের কোনো খোঁজখবর পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। বিষয়টি স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার স্বামী আলমগীরের কাছে জানতে চান। আলমগীর তার স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার দাবি করার পাশাপাশি তাকে বিদেশ পাঠানো হয়েছে বলে গল্প ফাঁদেন। এতে স্বজনদের সন্দেহ হয়।
এ ঘটনার পর গত ৩ জুলাই জাহেদা বেগমের বাবা হান্নান মিয়া রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রুজু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ রোববার (৫ জুলাই) সন্দেহজনকভাবে স্বামী আলমগীরকে আটক করে।
মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গেল ১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে আলমগীরের সাথে তার স্ত্রী জাহেদা বেগমের পারিবারিক কলহের জের ধরে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাকে সহযোগিতা করে আলমগীরের চাচাতো ভাই জালাল। পরে তার স্ত্রীর মরদেহ বাড়ির সামনে গর্ত করে মাটিচাপা দেয়। শুধু তাই না, পরবর্তীতে এই গর্তের ওপর ইট-সিমেন্ট দিয়ে পাকা করে নেন তারা।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এবং বাড়ির সম্মুখে স্ত্রীকে মাটিচাপা দেওয়ার স্থানটি দেখিয়ে দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, বর্তমানে মূল আসামিসহ দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা এবং বিস্তারিত জানা যাবে।