চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ১৫টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা, যেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, জেলার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের সদস্যরা বন্যাকবলিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত বন্যাজনিত ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ দুই উপজেলায় সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসনগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা ভবন এবং থানাতেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে, ফলে সরকারি সেবাদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।