সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের টানেই চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করেছেন সোহান চাও (৩৮) নামে এক চীনা নাগরিক। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড়ও জমেছে ওই বাড়িতে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরের বাসিন্দা সোহান চাওর সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় কসবা উপজেলার বাইসার গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে আয়েশা সুলতানার (২১)। পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরে গত ১২ জুন সোহান চাও বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের সম্মতিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। এরপর ইসলামী বিধান ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
আয়েশা সুলতানা জানান, বিয়ের পর কয়েকদিন ঢাকায় অবস্থান করার পর তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তারা।
আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, ‘ছেলেটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েই মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়েছি। তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন মেয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।’
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বিদেশি জামাইয়ের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাকে দেখতে আয়েশাদের বাড়িতে ভিড় করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় আইনগত বিষয় থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’