ওএমএস-এর আটা উধাও
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারের বিশেষ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আটা বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করে কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির আওতায় কালাই উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কেনার সুযোগ পান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দের পুরো আটা কখনোই বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাত না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটার পরিবর্তে মাত্র ২০ বস্তা বিক্রি করা হতো। ফলে শত শত নিম্নআয়ের মানুষ চাল পেলেও আটা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হতেন। দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে বরাদ্দের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকরা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সবাই মিলেমিশে খাই... ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জয়পুরহাট শহরের সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস থেকে প্রতিদিনই পূর্ণ বরাদ্দের ৪০ বস্তা আটা সরবরাহ করা হতো। সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আটা গ্রহণ করে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষরও করতেন। কিন্তু পরদিন বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যেত মাত্র ২০ বস্তা। বাকি আটার গন্তব্য কোথায়—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়লেও এর আগেই অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলসের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিদিনই তিন উপজেলায় পূর্ণ পরিমাণ আটা সরবরাহ করা হয়েছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত ওএমএস কর্মসূচিতে এমন অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, বরাদ্দের আটা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।