নেত্রকোনার পরিচিত মুখ ও ভাইরাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি থানা-পুলিশ পর্যন্ত না নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার মধ্যরাতে সেই সালিশ বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনাটি নেত্রকোনা সদর উপজেলার। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। দুদিন আগে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় কৌশলে তাকে পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
পরিবারের দাবি, স্থানীয় দুই ব্যক্তি ঘটনাটি দেখে ফেললে রিপন তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা করেন। জানাজানি হওয়ার পর থানায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সালিশটি অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সালিশে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, বৈঠকে রিপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন, এরপর তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সালিশের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
কিশোরীর মা বলেন, তাদের পরিবার দরিদ্র ও অসহায়, আইনি লড়াই চালানোর সামর্থ্য না থাকায় তারা প্রথমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। তবে এখন তারা সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল, তবে সেসব ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে ফাঁসানো হচ্ছে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো সুযোগ নেই।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন বলে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, রিপন মিয়া ২০১৬ সালে ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাণ শুরু করেন। গ্রামীণ জীবনের সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং ‘হাই, আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—সংলাপের মাধ্যমে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন।