মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে রোগীর চাপ। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। অনেক রোগীকে অতিরিক্ত বেড ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক। মৌসুমি ঠান্ডাজনিত রোগের পাশাপাশি কিছু রোগীর মধ্যে চর্মরোগের উপসর্গও দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা রোগীদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বিশুদ্ধ পানি পান, তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ এবং ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। তবে অনুমোদিত ১৬৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৫ জন। দীর্ঘদিন ধরে ২৯টি পদ শূন্য থাকায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে, যা সেবার মানেও প্রভাব ফেলছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু নাভানা আহম্মেদকে নিয়ে কালকিনি উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে হাসপাতালে আসেন তার মা রাবিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমার ছেলের পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে বমি ও পেটে ব্যথা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন চিকিৎসা চলছে।’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার বলেন, ‘সকালে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই বমি ও ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।’
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তন ও টানা বৃষ্টির কারণে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে আসা সব রোগীকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।’
চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডায়রিয়াসহ অধিকাংশ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।