আবুধাবিতে চাকরি করার সময় প্রথমবার ‘কাঠলিচু’ নামের বিদেশি একটি ফলের সঙ্গে পরিচয়। স্বাদ ও সম্ভাবনা দেখে তখনই আগ্রহ তৈরি হয় দিনাজপুরের যুবক মনিরুজ্জামান রিফাতের। প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে সেই আগ্রহকেই কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন কাঠলিচুর বাগান। এখন তার বাগানে ফলন দেখে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন এলাকার অনেক তরুণ ও উদ্যোক্তা।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের জোতকৃষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা রিফাতের বয়স ৩৫ বছর। নিজের পোল্ট্রি খামারের চারপাশে প্রায় দুই একর জমিতে শতাধিক কাঠলিচুর গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে এসব গাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার কাঠলিচু বিক্রি করেছেন।
রিফাত জানান, তিনি আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে বাজারে ফলের ঝুড়িতে কাঠলিচু দেখে প্রথমে তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ফলটি খেয়ে এর স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে শুরু করেন।
প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ২০২২ সালের জুনে চুয়াডাঙ্গা থেকে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকায় উন্নত জাতের ৫০টি কাঠলিচুর চারা কিনে আনেন রিফাত। পরে আরও ৭৫টি চারা সংগ্রহ করে নিজের ‘মেসার্স প্রবাস বন্ধু পোল্ট্রি অ্যান্ড চকিস’ খামারের চারপাশে রোপণ করেন। কয়েক বছরের পরিচর্যায় বর্তমানে গাছগুলো ফলভারে নুয়ে পড়েছে।
রিফাতের বাগানে ভিয়েতনামের ‘পিংপং’ ও ‘পিংকন’ জাতের কাঠলিচুর ফলন হয়েছে। তার দাবি, এসব গাছে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহারও খুব কম করতে হয়। ফলে নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল হিসেবে বাজারে কাঠলিচুর চাহিদা বাড়ছে।
রিফাত বলেন, ‘গত বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার কাঠলিচু বিক্রি করেছিলাম। এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ১০ লাখ টাকার কাঠলিচু বিক্রি করেছি। চাহিদার তুলনায় আমি চারা দিতে পারছি না। প্রতি ১০০টি চারা আকারভেদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছি।’
শুধু কাঠলিচু নয়, রিফাতের বাগানে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নত জাতের লটকনও। দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব ফল। এবার নিজের বাগানে উৎপাদিত প্রায় এক হাজার লটকন চারা বিক্রির জন্যও প্রস্তুত করেছেন রিফাত। এসব চারা বিক্রি করে আরও লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সম্প্রতি রিফাতের বাগান পরিদর্শন করেছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এবং হর্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, কাঠলিচু, লিচু ও রাম্বুটান একই গোত্রের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এটি লাভজনক এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। নতুন উদ্যোক্তারা যাতে রিফাতের মতো সফল হতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।