পাহাড়, জল আর সবুজের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও শব্দদূষণের অভিযোগও বাড়ছে। হাউজবোট ও পর্যটন বোটে উচ্চ শব্দে গান, নাচসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে হ্রদের আশপাশের বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটকদের আনন্দ-উৎসবে তাদের আপত্তি নেই। তবে বসতবাড়ির কাছাকাছি বোটে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের কারণে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের দিকে শব্দের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগ তাদের।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবিব আজম বলেন, পর্যটকেরা রাঙামাটিতে এসে আনন্দ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই আনন্দ যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বসতবাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে গান-বাজনার জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ এবং আগের নির্দেশনা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, কাপ্তাই হ্রদের কয়েকটি হাউজবোটে উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো, নাচ-গানসহ নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনদুর্ভোগ বা পাবলিক ডিসঅর্ডার সৃষ্টি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি রমজান হোসেন বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে বোট মালিকদের নিয়মিত সতর্ক করা হলেও কিছু বোট বেশি ভাড়ার আশায় উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় নৌ পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের পাশ দিয়ে বোট চলাচলের সময় আজান হলেও কোথাও কোথাও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করা হচ্ছে না। পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।