নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে গোরস্থানে আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ৯টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার মধ্যে প্রায় ১৮ কাঠা আয়তনের একটি পুরোনো গোরস্থানের মালিকানা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকান নির্মাণ করে বাজার গড়ে তুলতে চাইলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন। তাদের দাবি, গোরস্থানটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি শুধু কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
বিরোধ মীমাংসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় হামলা চালান। এ সময় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারও হামলা থেকে রক্ষা পায়নি।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পানেশ্বর পাড়ার ৫৪ জন রয়েছেন। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, ‘গোরস্থানটি ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করেছি। স্থানীয় এমপি দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু আমগড়ার লোকজন জোর করে সেখানে দোকান নির্মাণ করতে চাইছেন।’
তাদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে হিরা মিয়া, হোসেন মিয়া, হযরত, টিটু, মওলা, মোশাররফ ও কামাল পাশার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা আরও দাবি করেন, গোরস্থানের বৈধ দলিল তাদের কাছে রয়েছে। দলিলপত্র যাচাই করে প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’