শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আলহাজ আবদুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজে প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মিত কলেজটির আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের সাতটি বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে চারটি কোর্স চালু রয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৫০টি করে আসন থাকলেও বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১৫৮ জন। ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।
বর্তমানে কলেজে অধ্যক্ষের পাশাপাশি রয়েছেন মাত্র একজন নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর তাত্ত্বিক পাঠদানসহ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ওই শিক্ষকের ওপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ। নার্সিং শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও কলেজটিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই।
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে কোনো চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী নেই। ছাত্রী হোস্টেলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে কেউ না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও পানি সরবরাহ নিয়েও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
কলেজের শিক্ষার্থী অং সাং মারমা বলেন, ‘আমাদের কলেজে অধ্যক্ষ ও একজন শিক্ষিকা রয়েছেন। দুজনই ক্লাস করান। তবে কম্পিউটার শিক্ষক ও ব্যবহারিকের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় কলেজের ভেতরের অবস্থা অনেক খারাপ। মাঝেমধ্যে পানির পাম্প নষ্ট হয়ে গেলে ঠিক করতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে।’
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোসাম্মত নুশরাত জাহান বলেন, ‘যদি আমরা ঠিকমতো শিখতে না পারি, তাহলে রোগীকে সেবা দিতে পারব না। এই এলাকায় আমাদের ইন্টার্নশিপ করার মতো পরিসর নেই।’
কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর অসিমা রানী দাস সরকার বলেন, ‘আমাদের প্রথম সমস্যা শিক্ষক নেই। শিক্ষক হিসেবে আমি একা রয়েছি। অধ্যক্ষ স্যার নিয়মিত অফিসের কাজে থাকেন। একজন শিক্ষক দিয়েই কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। কোনো নিরাপত্তারক্ষী বা কর্মচারী নেই। আমরা শিক্ষক, আমরাই পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আমরাই আয়া-বুয়া।’
এদিকে কলেজটি এখনো iBAS++ কোড না পাওয়ায় পদ সৃষ্টি, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের অধ্যক্ষ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অবকাঠামোর পাশাপাশি একটি নার্সিং কলেজের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সহায়ক কর্মচারী, নিরাপদ আবাসন ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছানো কঠিন।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, হোস্টেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও মানসম্মত নার্সিং শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করতে শুধু অবকাঠামো নয়, প্রয়োজনীয় জনবল ও শিক্ষা-সহায়ক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা জরুরি।