নাগরিক প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশ
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের বাউসা উত্তরপাড়া বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মানসিকভাবে অসুস্থ শুভ আলমের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুভর পরিবারের কাছে তার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একই শুভকে ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন এমপি হিলালী।
এর আগে গত ১১ আগস্ট নাগরিক প্রতিদিনে ‘যে ছেলে ছিল মায়ের শেষ ভরসা, আজ সেই ছেলেই শিকলবন্দী’—এমন শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আসে। পরে তিনি দ্রুত তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে শুভ ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেন।
শুভর মা মমতা আক্তার বলেন, ‘গতকাল এমপি মহোদয়ের লোকজন আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তারা আমার ছেলের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমাকে কিছুটা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। আমার ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে তারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন। এতে আমি অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছি।’
শুভর চাচা বলেন, ‘আমরা অনেক খুশি। আমাদের মতো অসহায় একটি পরিবারের দিকে এমপি মহোদয় নজর দিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। এতে আমরা আশাবাদী। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
জানা গেছে, একসময় শুভ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা শফিউল আলম মারা যাওয়ার পর মা মমতা আক্তারের কাছেই বড় হন তিনি। নেত্রকোনার আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে পরিবারের দায়িত্ব নিতে ঢাকা গিয়ে একটি চাকরিতে যোগ দেন। তার উপার্জনেই চলছিল মা ও বোনসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ।
কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন শুভ। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ চালিয়ে যেতে না পারায় ধীরে ধীরে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন।
শুভর চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে বাবার রেখে যাওয়া জায়গা-জমি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে বসতভিটাটুকুই পরিবারের শেষ সম্বল। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা পরিবারটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধের ব্যবস্থা করা গেলে শুভ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তাদের প্রত্যাশা, শুভর চিকিৎসা যেন মাঝপথে থেমে না যায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকে।