মাদারীপুরের কালকিনিতে সহকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় দুই পা ভেঙে গুরুতর আহত হয়েছেন ইমাম হোসেন রাজন নামে এক সহকারী শিক্ষক। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার দুই পায়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরে আসেনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুই পা হারানোর শঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। একই ঘটনায় করা ফৌজদারি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত ইমাম হোসেন রাজন কালকিনি উপজেলার ১৫৮ নম্বর চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বা স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তারের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর জেরে গত ৩ জুলাই বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুর খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান লিপি আক্তারের ভাই মিলন মোল্লা ও তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে দুই পা ভেঙে দেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখম হয় তার। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রাজনের বাবা মাজেদ আলী শিকদার বাদী হয়ে লিপি আক্তার, তার ভাই মিলন মোল্লাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কালকিনি থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিরা বর্তমানে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
আহত শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের খাবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করায় আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে তার নির্দেশে তার ভাই মিলন মোল্লা লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা করে দুই পা ভেঙে দেয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও কঠিন বিচার চাই।’
তবে হামলার সঙ্গে নিজের ও ভাইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই কোনোভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না এসে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। আমি ন্যায়ের সঙ্গে আছি। সত্যের জয় হবেই।’
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্টও হাতে পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, ‘একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কালকিনির সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ দত্ত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে আহত শিক্ষক রাজনের পরিবার দ্রুত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকসমাজের পক্ষ থেকেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।