ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে তানজিন আহমেদ আবিদ নামের এক ছাত্রদলকর্মী মারা গেছেন। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
নিহত তানজিন আহমেদ আবিদ ময়মনসিংহ নগরীর দৌলত মুন্সিরোড এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
এদিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আবিদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শফিক উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আবিদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। দেখে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে।’
এর আগে রোববার বিকেলে জেলার গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন। মনোনয়নবঞ্চিত হন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তায়েবুর রহমান হিরণ। এরপর থেকে তিনি রেলপথ অবরোধ, সড়ক অবরোধ করে আগুন দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। আজ রোববার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেনের সমাবেশ ছিল গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে। একই সময়ে আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের কর্মসূচি ছিল গৌরীপুর মধ্য বাজারে।
একই সময়ে সমাবেশে যাওয়ার পথে মুখোমুখি হওয়ায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষে মঞ্চ, চেয়ার মোটরসাইকেল ও দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ভাঙচুর করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল বের করে মালামালে আগুন দেওয়া হয়। হিরণের সমর্থকদের দাবি, তাদের অন্তত ৪০ জন এবং ইকবাল পক্ষের দাবি, তাদের ১০ জন আহত হয়েছেন।
মনোনয়নপ্রাপ্ত ইকবালের পক্ষের নেতাকর্মীদের দাবি, নিহত আবিদ ছিলেন তাদের সমর্থক। প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন তিনি। তবে সেটি অস্বীকার করেছেন হিরণের পক্ষের নেতারা। তারা বলছেন, তাদের কোনো লোকজনের হামলায় আবিদ নিহত হননি।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তানজিন আহমেদ আবিদ। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’