আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সিগন্যাল ক্যাবল চুরি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একের পর এক সিগন্যাল পোস্টের ক্যাবল চুরির ঘটনায় সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কোনো ট্রেন ঢুকতে পারেনি। চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই সিগন্যাল পোস্টের তার কাটা হচ্ছে, গত মাসে চুরি গেছে ট্রান্সফরমারও। এসব কারণে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন পরিচালনা, আর যাত্রীরা পড়ছেন দুর্ভোগে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আজ সোমবার সকাল থেকে ট্রেন ঢুকতে না পারার পেছনে রয়েছে সিগন্যাল পোস্টের ক্যাবল চুরি। কিছু সময়ের ব্যবধানে দুই দফা তার চুরি হওয়ায় প্ল্যাটফর্ম দুটির লাইন অকেজো হয়ে যায়।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সিগন্যাল ক্যাবল কাটা হচ্ছে। গত মাসে ট্রান্সফরমার হারানোর পর এবার সিগন্যাল পোস্টগুলো চোরদের মূল লক্ষ্য।
ট্রেন পরিচালনায় সংকেত ব্যবস্থা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লাল, সবুজ, হলুদ আলোর মাধ্যমে ট্রেন চলা বা থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব সিগন্যাল পোস্টে বিশেষ ধরণের তার ব্যবহার করা হয়, যা কাটলেই পুরো সংকেতব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া এবং আখাউড়া-সিলেট রুটের নোয়াপাড়া পর্যন্ত একই ধরণের চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার মো. নূর নবী সকালে দায়িত্ব নিতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানান, ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অন্য দুই প্ল্যাটফরম পুরোপুরি বন্ধ।
এই জংশন স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, আখাউড়া-দেবগ্রাম এলাকায় সিগন্যাল পোস্টের তার চুরি হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ, থানা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। কতটুকু তার চুরি হয়েছে, তা যাচাইয়ের পর নতুন ক্যাবল লাগিয়ে লাইন সচল করার কাজ চলছে। তবে এতে সময় লাগবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, এর আগের চুরিগুলোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবারের ঘটনাটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।