জামালপুরের ইসলামপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন মনোনয়ন–বঞ্চিত প্রার্থী এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থকরা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে শহরের বটতলা তিনরাস্তার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে কাফনের কাপড় পরে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। উপজেলা, পৌর এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ইসলামপুর-২ আসনে বিএনপি যে মনোনয়ন দিয়েছে—সুলতান মাহমুদ বাবু—তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুপস্থিত, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয়। স্থানীয় আন্দোলন–সংগ্রামে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। এমনকি সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কখনো কোনো রাজনৈতিক মামলাও হয়নি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তাদের দাবি, এমন একজন প্রার্থী দিয়ে আসনটি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বক্তারা আরও বলেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বিদ্যালয়–মাদ্রাসার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি এবং সড়ক–ব্রিজ নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা হলেও তিনি সংগঠনের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সবসময় সক্রিয় ছিলেন। তাদের ভাষ্যে, ‘ইসলামপুরের জনগণ হালিমকে চেনে, তাঁকে চায়—এই আসনে গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং জয়ের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী তিনি’।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ দানু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তারা, সাবেক যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেলিম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক ডেভিটসহ আরও অনেকে। তারা একযোগে দাবি জানান—বর্তমান মনোনয়ন বাতিল করে দ্রুত এ এস এম আব্দুল হালিমকে প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে। নইলে ইসলামপুরে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সমাবেশ ও অনশন চলাকালে এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক অবরোধের কারণে বটতলা মোড় এবং আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও কোনো প্রকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
এ কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদেরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। স্থানীয়রা জানান, দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে ইসলামপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে সামনে আরও বড় ধরনের আন্দোলন দেখা দিতে পারে।