চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশ নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশে টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজ, স্টেশন দখলদারদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এখনো পরিবর্তন হোন। আপনারা অনেক শাসন দেখেছেন, এবার ইসলামকে সুযোগ দিন। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, অনাচার, খুনাখুনি থাকবে না।
মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুরে বেলস পার্কে আয়োজিত সমমনা ৮ ইসলামী দলের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামপন্থীদের সুযোগ দিতে জনগণের প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছেন উপস্থিত অন্যান্য নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, যারা ক্ষমতাপ্রেমী, বিভিন্ন সময়ে মুখরোচক কথার মাধ্যমে ধোকা দিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি করেছে, পাচার করেছে, চোরের দিক থেকে বারবার ফার্স্ট করেছে, তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। তাদের উৎখান করতে হবে। বাংলাদেশকে যারা অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে, তাদের জায়গাও এই মাটিতে হবে না। আমরা রাজপথে আন্দোলন করে এদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছি। কিন্তু চাঁদাবাজী দেখার জন্য রাস্তায় নামিনি, মানুষ খুন হবে এটা দেখার জন্যও রাস্তায় নামিনি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশ নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিত হবে। আর যারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদেরকে এদেশে আর সুযোগ দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্টেশন দখলের সঙ্গে জড়িতদের স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আপনাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এখনো আপনারা পরিবর্তন হোন। হাসিনাও বলেছিল, ‘শেখ হাসিনা পালায় না’। কিন্তু তিনি রান্না করা খাবার খেয়ে যেতে পারেনি। সুতরাং দেশের সবার শিক্ষা নিতে হবে। নয়তো এমন পরিণতির জন্য আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, আপনারা অনেক শাসন দেখেছেন এবার ইসলামকে সুযোগ দিন। আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র উপহার দেব ইনশাআল্লাহ। ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি থাকবে না, অবিচার থাকবে না, খুনাখুনি থাকবে না, দেশের টাকা বিদেশেও পাচার হবে না। এ সময় অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহেরের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা অনেকে আগে পীর পছন্দ করতাম না। আমিও ছাত্রজীবনে এমনটা মনে করতাম। কিন্তু আজকে চরমোনাই পীর সাহেবের পাশে বসে মনে হলো তিনি শুধু পীর নন, তিনি এদেশের ইসলাম প্রতিষ্ঠার একজন মহাবীর।
তিনি বলেন, আমরা আটদল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আল্লাহ তায়া’লা কোরআনে দুটা দলের কথা বলেছেন। একটা হলো হিজবুল্লাহ, আরেকটা হিজবুশ শয়তান। সুতরাং আমরা আল্লাহর দলে থাকতে চাই। আসুন আমরা একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোরআনের আইন চালু করি। মানবরচিত আইনের সংবিধান দেখতে চাই না। মদিনার ইসলাম কায়েম করতে চাই। সংস্কারের মাধ্যমে আমরা সংবিধান থেকে ইসলামবিরোধী ধারা বাতিল করতে চাই।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। সবশেষে তিনি ৮ দলকে আগামী দিনে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। কেউ খাবে তো কেই খাবে না, তা হবে না ইনশাআল্লাহ। ইসলামী হুকুমত হলে এদেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই স্বাধীনভাবে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধর্মীয় আচার পালন করবে।
তিনি বলেন, ইসলামী হুকুমত হলে দেশের সবাই একসঙ্গে হাসবো ও কাঁদবো, যদি খেয়ে থাকি তবে একসঙ্গে খাবো, না খেয়ে থাকলে সবাই একসঙ্গে না খেয়ে থাকবো। আজকের এ সমাবেশ দেখে কেবল জালিম ও চাঁদাবাজরাই নাখোশ হতে পারে, মুক্তিকামী মানুষ আশার আলো দেখবে ইনশাআল্লাহ।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসির আজাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।