সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আমতৈলী (পূর্ব হাঁটি উত্তর পাড়া) গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা শুরু হয়। দফায় দফায় এ সংঘর্ষ রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত চলে।
জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় আমতৈলী মধ্যপাড়া চান মিয়ার দোকানে সুরুজ আলীর নেতৃত্বে ১০–১৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি গ্রুপ একই গ্রামের মুসলিম মিয়াকে মারধর করে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাতেই তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শনিবার রাত ৮টার দিকে চান মিয়ার দোকানে আনোয়ার হোসেনের ফুফাতো ভাই মুসলিমের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আবারও সংঘর্ষ হলে মুসলিমের মেয়ে আহত হয়।
এরপর চান মিয়ার নেতৃত্বে আনোয়ারের চাচাশ্বশুর সামসুল রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এর জের ধরে রোববার সকাল ৬টার দিকে। চান মিয়ার নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন সুরুজ আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আবু চান গ্রুপের আক্তার মিয়া বলেন, মুসলিমকে শনিবার রাতে মারধর করার পর রবিবার সকালে আবারও সুরুজ আলীর নেতৃত্বে আসুক মিয়া ও লাইলীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, মুসলিমের বাড়ির নতুন দরজা, জানালা, হাড়ি পাতিলসহ মালামাল লুটপাট করে নিয়েছে প্রতিপক্ষরা।
সুরুজ আলী গ্রুপের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, আমরা তখনো ঘুম থেকে উঠিনি। হঠাৎ আবু চান এর লোকজন এসে আমাদের বাড়িতে ইটপাটকেল মারতে থাকে। আমরা প্রতিরোধ করি। তারা প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে এসে হামলা চালিয়েছে আমাদের উপর।
আবু চান গ্রুপের আহতরা হলেন, লাইলী বেগম, চান বাদশা, আশিক নুর, ময়না আক্তার, রাকিব, মমিন, আবুল বাদশা, হারুন মিয়া, আবু চান মিয়া এবং সুরুজ আলী গ্রুপের আহতরারা হলেন, দিলোয়ার, হৃদয়, তৌফিক, জাকির, ফিরুজ খাতুন, জয়দর আলী, শরিফ, শাহ আলম, হায়দার আলী, আমির আলী, মনির হোসেন, আনোয়ার, নজীর হোসেন, জালাল হোসেন।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ করেনি আসেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।