চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড পাহাড়ে স্বচ্ছ পানির ওপর সারাবছর জ্বলতে থাকে আগুন। যা স্থানীয়দের কাছে এক বিস্ময়। পানির নিচ থেকে বুদবুদের মতো শব্দ তুলে আগুন উঠলেও একদিনের জন্যও কুণ্ডটির পানি শুকায় না। জায়গাটি খুব বেশি গভীর নয়, অথচ পানির স্বভাব একেবারেই ঠান্ডা। আশপাশের কোনো টিলায় পানি না মিললেও এই কুণ্ডে সারা বছর পানির স্তর অটুট থাকে।
স্থানীয়দের মতে, কবে থেকে এই আগুন জ্বলছে তার সঠিক তথ্য কারও জানা নেই। অনেকের কাছে বিষয়টি অলৌকিক মনে হলেও ভূতত্ত্ব গবেষকদের মতে, ব্রিটিশ আমলে এই পাহাড়ের নিচে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির কারণেই পানির ওপর আগুন জ্বলছে। তবে বছরের পর বছর ধরে আগুন জ্বললেও পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত না থাকায় তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড পাহাড়টি চারদিকে সবুজে ঘেরা। পাহাড়ের মাঝখানের একটি টিলায় পুরোনো ও ভঙ্গুর একটি দ্বিতল ভবনের ভেতরে প্রায় ১০ বর্গফুট আয়তনের একটি ছোট কুণ্ড রয়েছে। কুণ্ডটি দুই ভাগে বিভক্ত, যার দক্ষিণ অংশে সবসময় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আগুন জ্বলার সঙ্গে রয়েছে বুদবুদের শব্দ ও তীব্রতা। নিরাপত্তার স্বার্থে কুণ্ডটির চারপাশে ইট-সিমেন্টের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বাড়বানল’ নামে পরিচিত।
সারা বছর আগুন জ্বলে থাকার কারণে কুণ্ডটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এখানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। অগ্নিকুণ্ডটির পাশেই রয়েছে ‘অগ্নিকুণ্ড ঝরনা’, ফলে দর্শনার্থীরা একই সঙ্গে ঝরনা ও আগুন জ্বলা কুণ্ড, দুটিরই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।
গবেষকদের মতে, ব্রিটিশ আমলে এই পাহাড়ের নিচে মিথেন গ্যাসের মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। ভূগর্ভ থেকে নির্গত ওই মিথেন গ্যাসই অগ্নিকুণ্ডে পানির ওপর আগুন জ্বলার প্রকৃত কারণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্নিকুণ্ড মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক স্মৃতি লতা ভারতী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ভগবান শিবের ক্রোধ প্রশমিত করতে ভগবান বিষ্ণু পার্বতীর দেহকে ৫১টি অংশে বিভক্ত করেছিলেন। তার মধ্যে একটি অংশ বাড়বকুণ্ডে পতিত হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই স্থানে পানির ওপর আগুন জ্বলার অলৌকিক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
যেভাবে ভ্রমণ করবেন
অগ্নিকুণ্ডে যেতে হলে প্রথমে যেকোনো বাসে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজারে এসে নামতে হবে। সেখান থেকে বাজারের ভেতর দিয়ে পূর্ব দিকে রেললাইন পার হয়ে পাহাড়ের দিকে এগোতে হবে। নিস্তব্ধ পাহাড়ি পরিবেশে অন্তত আড়াই কিলোমিটার হাঁটা অবস্থায় ছোট্ট একটি টিলায় অগ্নিকুণ্ড মন্দিরটি চোখে পড়বে। সেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগেও সেখানে যাওয়া যায়।