ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে বেশ দেরি হয়েছিল। শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় তিন মাস পর সব শিক্ষার্থীর জন্য সব বিষয়ের পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তবে এ বছর সময় মত চাহিদার শতভাগ বই পেয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। বই হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষকরা। কিন্তু ভিন্ন চিত্র মাধ্যমিকের বই পাওয়াতে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের আর মাত্র ৩ দিন বাকী থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬৮ শতাংশ পাঠ্যবই এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। এ কারণে মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই নিয়ে সংকট বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন সময়মত বই পেলে বছরের শুরুতেই পাঠদান সহজ হবে অন্যথায় গতবছর মত পাঠ্যক্রম শেষ করা দুস্কর হবে।
অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই নিয়ে কোনো সংকট নেই। যশোরে চাহিদার শতভাগ বই পেয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। বছরের শুরুতেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই পাবে।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে। যশোরে এ বছর ১২ লাখ ৮২ হাজার ৭২৫টি বাইয়ের চাহিদা ছিল। সব উপজেলা শিক্ষা অফিসে বই পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে স্কুলগুলোতে বই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকে বইয়ের সরবরাহ সন্তোষজনক হওয়ায় শিক্ষকরা বই উৎসব নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন।
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাধ্যমিক স্তরে। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, মাধ্যমিকের (৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি) চাহিদার তুলনায় এখন পর্যন্ত ৩১.৯০ শতাংশ বই জেলায় এসেছে। এ বছর যশোরে ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৪০৩টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৪১টি বই এসেছে। অনেক শ্রেণির প্রধান বিষয়গুলোর বই এখনো ছাপাখানা থেকে এসে পৌঁছায়নি। ফলে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বছর শুরুর আগেই আমরা চাহিদার শতভাগ বই পেয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই প্রদান করেছি। প্রাইভেট স্কুলের বই গুলোও ধীরে ধীরে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন বলেন, মাধ্যমিকের সব বই এখনো আসেনি এটা ঠিক, তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন বইয়ের ট্রাক আসছে। আমরা আশা করছি ১ জানুয়ারির মধ্যে সব বই হাতে চলে আসবে। যেসব বই বাকি থাকবে, সেগুলো দ্রুত সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, যশোর জেলায় মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য নতুন বইয়ের চাহিদা রয়েছে।