আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। একই সঙ্গে তার দুই সমর্থককেও লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য তলব করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, অর্থঋণ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল মাহমুদ স্বাক্ষরিত নোটিশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নোটিশে ৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়ারেছ আলীর পাশাপাশি, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান (রুমেল) এবং জামালপুর শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় জামালপুর দিনকাল পত্রিকার প্রকাশক মো. আরজু আকন্দকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৫ (সদর উপজেলা) আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের পক্ষে একটি পত্রিকায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল ও জামালপুর শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরজু আকন্দ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত বিজ্ঞাপন যাচাই করে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। একজন প্রার্থীর সমর্থকদের এমন কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি-১৮ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
এমতাবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে কেন নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না, সেই বিষয়ে আগামী ৩ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ জারি করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নোটিশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনের সচিব, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জামালপুর, নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব (আইন), পুলিশ সুপার জামালপুর, জেলা নির্বাচন অফিসার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী জানান, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমার দলের কোনো নেতাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। বিজ্ঞাপনটি কীভাবে প্রকাশিত হলো, তা আমি খুঁজে দেখছি। এ বিষয়ে দায় আমার নয়। তবুও যেহেতু ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, আমি সঠিক তথ্যসহ বিষয়টি জানাবো।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, আমরা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আচরণবিধি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।