সুন্দরবনে অপহৃত দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী। ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে সুন্দরবনের কেনুয়ার খাল থেকে ওই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে অপহরণ করে বনদস্যু মাসুম বাহিনী।
এরপর কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে রোববার (০৪ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন গাজী ফিসারিজ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় দস্যু চক্রের সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে আটক করে যৌথবাহিনী।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কেনুয়ার খালে খোলা বোটে ভ্রমণে যায় রিসোর্ট মালিকসহ মোট সাতজন। ওই সময় বনদস্যু মাসুম বাহিনী তাদেরকে জিম্মি করে। পরে দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে আটকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়।
পরে তাদেরকে জিম্মি করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে বনদস্যুরা। পরবর্তীতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবহিত করে। এরপর কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে বনদস্যু মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মোঃ সালাম বক্স (২৪) এবং মেহেদী হাসান (১৯)-কে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা হতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা হতে দস্যুদলের সহযোগী আলম মাতব্বর (৩৮)-কে আটক করা হয়। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা হতে গোয়েন্দা নজরদারি করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডু (৩০)-কে নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়। আর সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে জিম্মিকৃত দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা পর্যটকদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আটক ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে।