সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটির চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বনকর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল। তিনি বলেন, উদ্ধারের পর বাঘটিকে চিকিৎসা দিতে খুলনা বন্যপ্রাণী পূনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়েছে। সেখানে রোববার (০৪ জানুয়ারি) রাতেই বাঘটির চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসার জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন জুলকার নাইম খুলনায় এসেছেন।
এর আগে সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করে বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ দল। বাঘটিকে উদ্ধারে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে বাঘটিকে অচেতন করা হয়। পরে বাঘটি খাঁচায় বন্দি করে খুলনা আনা হয়।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া পুরুষ বাঘটি পূর্ণবয়স্ক। বাঘের সামনের বাম পা ফাঁদে আটকে ছিল। ফলে পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ৪-৫ দিন ধরে বাঘটি ফাঁদে আটকে ছিল বলে ধারণা বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ টিমের। মূলত শনিবার দুপুরের পর বনবিভাগের কাছে খবর আসে যে, মোংলার শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়েছে। এরপর থেকে বাঘটি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে তারা। বাঘটি উদ্ধারের জন্য ঢাকা থেকে ভেটেনারি সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ দল আসে রোববার দুপুরে। এছাড়া, উদ্ধার কাজে আসেন খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেস্কিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার শরীরে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বাকি শারীরিক অবস্থা বেশি একটা ভালো না, খুলনায় চিকিৎসা শেষে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।