প্রবল ঢেউ ও শৈত্যপ্রবাহ
বঙ্গোপসাগরে বায়ুতাড়িত প্রবল ঢেউ ও কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে মাছ ধরতে পারছেন না সুন্দরবনের দুবলারচরের শুঁটকি পল্লীর জেলেরা। টানা তিন দিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সাগরে জাল ফেলতে না পেরে বহু জেলে ফিরে যাচ্ছেন আলোরকোলসহ দুবলা চরের বিভিন্ন জেলে পল্লীতে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া শুঁটকি পল্লীর জেলেদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সুন্দরবনের দুবলা চরের আলোরকোল এলাকার রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলা যাচ্ছে না। ফলে, জেলেরা মাছ না ধরেই শুঁটকি পল্লীতে ফিরে আসছেন। প্রচণ্ড শীতে জেলেদের অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বহু নৌকা সাগর থেকে ফিরে এসেছে। বুধবার সকালেও মাছ ধরা বন্ধ করে অন্তত ১২টি জেলে নৌকা আলোরকোলে ফিরে এসেছে।’
সুন্দরবনের শেলারচর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মিঠু হাওলাদার বলেন, ‘তীব্র শীত, ঠান্ডা বাতাস ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে শেলারচরের জেলেরা সাগরে নামছেন না। ফলে, মাছ সংগ্রহ ও বেচাকেনাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বর্তমানে দুবলার চরাঞ্চলে প্রবল ঠান্ডা বাতাস বইছে। সাগরে প্রবল ঢেউ থাকায় জাল ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে পারছেন না।’
এদিকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, ‘ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারণে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না। একই সঙ্গে সাগরে প্রবল ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার ফলে সুন্দরবন বিভাগের স্বাভাবিক টহল কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।’