২৪ ঘন্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বয়স ৬০ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান বলেন, ঠান্ডার কারণে আমার বাবার শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬ টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার পিতার হার্টের সমস্যা ছিলো। তবে কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তীব্র শীতের কারণেই আমার বাবা মারা গেছেন।
মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে তিনি দশদিন অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উম্মে হানি নামের ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা মারা গেলে তার ছেলে বনি জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌচ্ছাছিলো না। যে কারণে তিনি মারা গেছেন।
এদিকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ বলেন, ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডাজনিত ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে প্রায় ১০ জন লোক মারা গেছেন। বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি। ফুসফুস সংক্রমণ ও অন্যান্য কমপ্লিকেশনসের কারণে বয়স্কদের মধ্যেই মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হচ্ছে ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা যায়, সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য নিজেকে সতর্ক রাখা উচিত বলেও জানান তিনি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। এর মধ্য ৫৪ জন শিশু।