খুলনার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রাজীব হোসেন ওরফে ‘ঘাউড়া রাজীব’। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ ১৪টি মামলা ছিল বলে জানা গেছে। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় আসেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে রাজীবের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার খুলনার ৬ নম্বর ঘাট এলাকার ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে রাজীবের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
খুলনা নৌ-পুলিশ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান, দুপুরের পর রাজীবের মরদেহ তার দুই স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। তার মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রাজীবের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অপরাধ করে সে তার মামা বাড়ি গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে আশ্রয় নিত। নিহত রাজীব চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন বলে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে জানা গেছে। পরিবার মামলা করলে তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।
বাবুল আক্তার আরও বলেন, গত ৩ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজীব। এক সপ্তাহ পর তার ফুলেফেঁপে ওঠা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাকে হত্যা করে তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
রাজীবের প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ওই সময় তার ডান হাতের রগ কেটে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। চার বছর আগে আমাদের বিচ্ছেদ হয়। শনিবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে খুলনায় আসি।’