কুষ্টিয়ায় শাজাহান আলী নামের এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিচারে পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকা ও জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক শাহজাহান আলী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ক সহকারী শিক্ষক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাতে একটি এয়ারগান নিয়ে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে রাস্তায় হাঁটতে যাচ্ছেন। এ সময় মসজিদের ইমাম ও স্থানীয়রা তাকে পাখি নিধনে বাধা দেয় ও প্রতিবাদ জানায়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তাদেরকেই হেনস্তা করেন।
এ ছাড়া ওই ইমাম কাজটি অন্যায় করছেন কি না প্রশ্ন করলে শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমি অন্যায়-বেঅন্যায় দেখতি আসি নাই।’ পরে সেখান থেকে তিনি চলে যান।
এ বিষয়ে শাহজাহান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিডিওটি গত শুক্রবারের। তার পুকুরে বক এসে মাছ খেয়ে ফেলে। সেগুলো তাড়াতেই তিনি পাঁচ বছর ধরে ওই এয়ারগান ব্যবহার করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি পাখি শিকার করেন না এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ভিডিওতে যাকে দেখা গেছে, তিনি তাদের আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক। সমাজ সচেতন একজন মানুষের এমন আচরণ সত্যিই দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী জানান, বিষয়টি তিনি এখনো খতিয়ে দেখছেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।