জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে ইরি বোরো ধানের বীজতলার চারা হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অনেকেই বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করলেও তাতে তেমন সুফল মিলছে না। ফলে, আসন্ন ইরি বোরো আবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা জানান, আমন মৌসুম শেষে চলতি বোরো মৌসুমের জন্য তারা বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু, কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে বীজতলার গজানো চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে, পাতাগুলো গুটিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চারা মরে যাচ্ছে।
পাঁচবিবি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাঁচবিবি পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৯ হাজার ৯০৬ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার বালিঘাটান ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের কৃষক ছাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢেকেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এবার ইরি আবাদ করতে পারব কি না জানি না।’
উপজেলার মালনচা গ্রামের কৃষক সাজু মিয়া বলেন, ‘এবার ২ একর জমির জন্য ২০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলাম। তীব্র শীতে তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে আবার বীজতলা করলেও শৈত্যপ্রবাহে আবার ক্ষতি হচ্ছে। এতে ইরি আবাদ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চারা হলুদ হয়ে গেলে পরিমিত ইউরিয়া সার ও জিপসাম প্রয়োগ এবং গোড়া পচন রোগ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় স্প্রে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’