যশোরের মনিরামপুরে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ইছালী গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়।
নিহত কৃষকের নাম শফিকুল ইসলাম (৫৫)। তিনি ইছালী মোড়লপাড়ার কেতাব উদ্দিন মোড়লের ছেলে।
শফিকুল ইসলামের মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা উপস্থিত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে স্বজনেরা এই ঘটনাকে হত্যা বলে অভিযোগ করছেন।
স্বজনেরা জানান, শফিকুল ইসলামের এলাকার মাঠে একটি বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্র আছে। আজ ভোরে তিনি সেচ পাম্প চালাতে মাঠে আসছিলেন। এরপর মাঠে কাজ করতে এসে কয়েকজন কৃষক শফিকুলের মরদেহ পাশের বাগানে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুলতে দেখে বাড়িতে খবর দেন।
স্বজনেরা বলছেন, নিহত শফিকুলের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তার সুখের সংসার। বাড়িতে কোনো অশান্তি নেই। মাঠে জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে অন্য সেচ যন্ত্রের মালিকদের সঙ্গে তার (শফিকুল) বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে শফিকুলকে হত্য করে মরদেহ মাঠের পাশে আব্দুল বারিক মোড়লের কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহত শফিকুল ইসলামের ছেলে সেনাসদস্য রিফাত ইফতেখার বলেন, ‘প্রতিদিন ভোর রাতে ফজরের আগে আব্বু মাঠে সেচ যন্ত্র চালু করতে যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন। আজ (শুক্রবার) ভোরে আব্বু যথারীতি আম্মুকে বলে মাঠে রওয়ানা হন। তখন আব্বু মাকে বলেছিলেন বাড়ি ফিরে নামাজ পড়ে মাঠে সার ছিটাতে যাবেন। এরপর আব্বু আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে খবর পাই বাগানে গাছের সঙ্গে আব্বুর মরদেহ ঝুলছে।’
রিফাত আরও বলেন, ‘পাশের গ্রামের ওসমান গনিদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল। তারা এর আগেও আমার আব্বুকে মেরেছিল।’ তবে এই বিষয়ে ওসমান গনিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, ‘ঝুলন্ত মরদেহ নামিয়ে মর্গে পাঠানো হচ্ছে। শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’