একটি পরিবারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ছোট্ট ফুলের দোকান। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ব্যস্ততম মোড় পাঁচমাথা এলাকায় রয়েছে অস্থায়ী এই ফুলের দোকান। এই দোকানই হয়ে উঠেছে একটি সংসার চালানোর প্রধান অবলম্বন। ফুল বিক্রির আয়ে চলছে ছেলে ও মেয়ের লেখাপড়া, সংসারের খরচ।
দীর্ঘদিন ধরেই পাঁচমাথা এলাকায় ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন মো. রুমন মন্ডল। ফুলের দোকানের আয় থেকেই একটি ছোট মুদির দোকানও করেছেন তিনি। প্রতিদিন ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তাজা ফুল সংগ্রহ করে দোকান সাজান তিনি। প্রতিদিন সকালে গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, টিউব রোজসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির নানা রঙের ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে তার দোকান।
ফুল কিনতে আসা ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, ‘অনেক দিন পর ঘুরতে বের হয়েছি। পাঁচমাথায় এসে চোখে পড়লো এই ফুলের দোকান। এখানে নানা ধরনের ফুল দেখে ভাল লাগল। ভাবছি বাড়ি ফেরার সময় ছোট বোনের জন্য ফুল নিয়ে যাব ও অনেক খুশি হবে।’
ফূুল কিনতে আসা মাহবুবা খাতুন বলেন, ‘আমি এখান থেকে নিয়মিত ফুল কিনি। ফুল সব সময় টাটকা থাকে, দামও তুলনামূলক কম। দোকান ছোট হলেও ব্যবহার আর মানের দিক থেকে তিনি অনেক বড় ব্যবসায়ীর চেয়ে ভালো।’
ফুল কিনতে আসা তামান্না বেগম বলেন, ‘আমি গোলাপ ফুল খুব পছন্দ করি। পাঁচমাথা এলাকায় এমন একটি ফুলের দোকান থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। কোনো অনুষ্ঠান থাকলে দূরে যেতে হয় না। সহজেই হাতের নাগালেই কম দামে ফুল পাওয়া যায়।’
এ প্রসঙ্গে ফুল বিক্রেতা মো. রুমন মন্ডল বলেন, ‘আমি আগে কাপড়ের ব্যবসা করতাম। কিন্তু, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে একটি ব্লক আছে। এজন্য আগের মতো সব কাজ করতে পারতাম না। তখন সংসার চালানো খুব কষ্টের ছিল। পরে ফুলের ব্যবসা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে এখন দিন বদলেছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়। এই আয় দিয়েই ছেলে-মেয়ের স্কুলের বেতন, বই-খাতা ও সংসারের খরচ ঠিকভাবে চালাতে পারছি। বর্তমানে ফুলের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিয়ে, গায়ে হলুদ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, জন্মদিনসহ নানা আয়োজনে ফুলের ব্যবহার বেড়েছে। মানুষ এখন ফুল দিয়েই বেশি আনন্দ প্রকাশ করতে ভালোবাসে। সরকার বা স্থানীয়ভাবে একটু সহযোগিতা পেলে স্থায়ী একটি দোকান গড়ে তুলে ব্যবসা আরও বড় করতে চাই।’