আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাগুরায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাঙচুর করা হয়েছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে বৃহস্পতিবার।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নির্দেশনায় ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে ভোটকেন্দ্রের রাস্তা ও খেলার মাঠ কাভারেজের জন্য দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই একটি ক্যামেরা পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে ক্যামেরা ভাঙচুর করতে দেখা যায়। তবে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ছাড়া ঘটনার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর কয়েকজন যুবককে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, এই ঘটনার সঙ্গে সংঘবদ্ধভাবে কেউ জড়িত থাকতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। কিন্তু রাতেই ভাঙচুরের ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আফজাল হোসেন জানান, রাতে খাবার শেষে বিদ্যালয়ে ফিরে এসে তিনি কয়েকজন যুবককে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। সকালে উঠে ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের আশপাশে মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের কেউ এই নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের আগেই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ধ্বংসের এই ঘটনা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা কিনা—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।