চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুনীতিবাজদের তওবা করে আদর্শ নাগরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বগুড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যুমনা সেতু নির্মাণেরও ঘোষনা দেন তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা ও শহর শাখার আয়োজনে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ও শেরপুর উপজেলা জামায়াতের উদ্যাগে মহিপুর খেলার মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আমিরে জামায়াত বলেন, জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাংখা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দূর্নীতি, দু:শাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের আকাংখা বাস্তবায়নে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিভক্তি চাই না। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা অতীতে জাতিকে ১০ টাকা কেজি চাউল খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধোঁকা দিয়েছিল তাদের পরিনতি সবাই দেখেছে। এখনো যারা নানাভাবে জনগণকে ধোঁকা দিতে চান তাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে অতীতের মতো আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না। যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে তাদের পেট পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজী করেনি, বর্তমানে করেনা এবং ভবিষ্যতেও করবেনা। আমাদের পরিস্কার ঘোষণা হলো, আমরা চাঁদাবাজি করব না, কাউকে করতেও দেব না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এক একা সরকার গঠন করতে চাই না। দশে মিলে দেশ গড়ার কাজ করতে চাই। আমাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য মাত্র তিনটা শর্ত পূরণ করতে হবে। এক. নিজেরা দূর্নীতি করবেন না এবং দূর্নীতি করতে দেবেন না। ২. ন্যায় বিচারের স্বার্থে কখনোই বিচার বিভাগের প্রতি হস্তক্ষেপ করবেন না। ৩. যেই সংস্কারের জন্য আমাদের দেশের মানুষ জীবন দিল সেইসব সংস্কার বাস্তবায়নের ওয়াদা করতে হবে।’
আমিরে জামায়াত বলেন, ‘নারীরা আমাদের মায়ের জাত। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে। পুরুষদের পাশাপাশি আমাদের মায়েরা যোগ্যতার সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহন করবেন। তারা নিশ্চিন্তে নিজের ইজ্জত নিয়ে চলাফেরা করবেন। রাসুল (সা:) এর জামানায় নারীরা যেমন নিরাপদে ছিলেন জামায়তে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তেমনিভাবে মায়েদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। মায়েদের মেধাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করা হবে। কেউ মায়েদের ইজ্জত এবং সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করলে বরদাশত করা হবে না।’
যুবকদের উদ্দেশ্যে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘আমরা যুবকদের বেকার দেখতে চাই না। আমরা বেকারদের ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিনত করতে চাই। সকল যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।’
তিনি ন্যায়, ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তিনি বগুড়া জেলার ৭টি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দিয়ে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। বক্তব্য দেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গোলাম রব্বানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির এড. হেলাল উদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সহ-মূখ্য সমন্বয়ক সাকিব মাহদী, এলডিপি বগুড়া জেলা সভাপতি অ্যাড. মোকলেছুর রহমানর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব এস এ জাহিদ সরকার, খেলাফত মজলিমের জেলা সভাপতি রাশেদুল হাসান, বিডিপির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাসেত, নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, জেলা পশ্চিম শিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল মতিরন, শহর সভাপতি আজগর আলী, শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রফিকুল আলম, এড. আল-আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
এ দিকে বগুড়ার জনসভা শেষে জামায়াত আমীর ডা: শফিকুর রহমান শেরপুরে বগুড়া-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমানের নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহন করেন।
শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিধ নাসিমের সঞ্চালনায় এই জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা মানছুরুর রহমান, অ্যাড.আব্দুল হালিম, নাজমুল হক, শাহীন আলম, ইফতেখার আলম, শিবির নেতা জোবায়ের আহম্মদে প্রমুখ।