এমিরেটস স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচজুড়ে উত্তেজনার পারদ খুব একটা দেখা যায়নি। খেলা এগিয়েছে ধীর গতিতে, আক্রমণেও ছিল না ধারালো ছাপ। পরিসংখ্যান বলছিল চেলসির বল দখল কিংবা শট সবখানেই তারা সামান্য এগিয়ে। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে শেখায়, সেটাই আবারও প্রমাণ করল আর্সেনাল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে গোলশূন্য অবস্থায় বাড়তি সময়ে (৯৭ মিনিট) ডেকলান রাইসের লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন কাই হ্যাভার্টজ। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোলরক্ষককে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশে জাল কাঁপান জার্মান তারকা। ওই এক গোলেই ১–০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় গানারদের।
এই জয়ের ফলে প্রথম লেগের ৩-২ ব্যবধানের সঙ্গে মিলিয়ে ৪-২ অ্যাগ্রিগেটে লিগ কাপের ফাইনালে উঠল মিকেল আরটেটার দল। অবশ্য ম্যাচের পরিসংখ্যানে চেলসিই ছিল এগিয়ে। তাদের বল দখল ছিল ৫৫ শতাংশ, শট নেয় ১১টি, যার মধ্যে মাত্র ২টি লক্ষ্যে। বিপরীতে আর্সেনাল নেয় ৬টি শট, এর মধ্যেও লক্ষ্যে ছিল ২টি। তবে কার্যকারিতার দিক থেকে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরাই।
প্রথমার্ধে দুই দলই খেলেছে বেশ সতর্কভাবে। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আর্সেনাল সুযোগ তৈরি করলেও চেলসির গোলরক্ষক বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। বিরতির ঠিক আগে দূরপাল্লা থেকে নেওয়া একটি শটে আর্সেনাল গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলেন এনজো ফার্নান্দেজ। দ্বিতীয়ার্ধে গতি কিছুটা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
ম্যাচের বাড়তি সময় শুরু হতেই হতাশ হয়ে চেলসি সমর্থকদের একাংশ স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন জার্মান তারকা হ্যাভার্টজ।
এই জয়ের মাধ্যমে এমিরেটস স্টেডিয়ামে চেলসির বিপক্ষে আর্সেনালের অপরাজেয় ধারাও আরও দীর্ঘ হলো। দুই দলের সর্বশেষ ১০ দেখায় এখনো জয়ের স্বাদ পায়নি চেলসি।