ঠাকুরগাঁওয়ে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে ৩.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। জেলার ৩৩ কিলোমিটার পূর্বে আটঘরিয়া এলাকায় এর উৎপত্তিস্থল।
অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি অনুসারে, ভূমিকম্পের গভীরতা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। যদিও ধারণা করা হচ্ছে এটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল। এ ছাড়া বেশির ভাগ মানুষ এটি অনুভব করেনি বলেও জানিয়েছে তারা।
এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো ধরনের ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হালকা কম্পনের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, ঝাঁকুনি বেশ শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈলের বাসিন্দারা এটি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছেন।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভোররাতে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই দিন ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন অনুভূত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ভূকম্পন অনুভব করার কথা জানান। নগরীর জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা, টিলাগড়, শাহপরান থানা এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ও কম্পন অনুভূত হয়।
উল্লেখ্য, ভূতাত্ত্বিকভাবে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প অঞ্চলে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর বিভাগ সংলগ্ন এলাকা, ভারত–মিয়ানমার টেকটোনিক প্লেটের প্রভাববলয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে মাঝেমধ্যে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সাধারণত এসব ভূমিকম্পের মাত্রা কম থাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না এবং অনেক সময় তা সাধারণ মানুষের নজরেও আসে না। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের মৃদু কম্পন ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক নড়াচড়ার স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ, যা ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল হিসেবে দেশের ঝুঁকি স্মরণ করিয়ে দেয়।