কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে দুই স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মহেশখালীর হামিদিয়ার খালের মুখ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মহেশখালী থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় যাত্রী ও পর্যটক নিয়ে একটি স্পিডবোট রওনা দেয়। পথিমধ্যে হামিদিয়ার খালের মুখ এলাকায় বোটটির ইঞ্জিনের প্রপেলারে কিছু একটা আটকে গেলে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করেন। চালক যখন ইঞ্জিনটি উঁচিয়ে আটকে থাকা বস্তু সরানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই পেছন থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগামী স্পিডবোট থেমে থাকা বোটটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় স্পিডবোটটি উল্টে যায় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। স্থানীয় অন্যান্য নৌযান ও স্পিডবোট দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে। এর মধ্যে এক নারী গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ আগে তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটটি কক্সবাজারের স্থানীয় এক ব্যক্তির মালিকানাধীন। দুর্ঘটনার সময় মনজুর নামে এক চালক সাময়িকভাবে বোটটি পরিচালনা করছিলেন। ধাক্কা দেওয়া অপর বোটটির চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিয়মিতভাবে স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার না করার প্রবণতা থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তারা।