আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
গত রোববার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন এবং একই সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য দেশি-বিদেশি একটি অপশক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত প্রার্থীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা, নাশকতা এবং ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে বিভিন্ন আসনে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থী হাসান মামুনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। এর ফলে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার রাতে লিফলেট বিতরণ শেষে পানপট্টি এলাকায় ফেরার পথে তার এক কর্মী রাকিবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগেও চরকপালভেরা এলাকায় শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা রিয়াজ হামলার শিকার হন।
গত রোববার সন্ধ্যার পর আরেকটি ঘটনার কথা তুলে ধরে নুর বলেন, চিকনিকান্দি এলাকা থেকে ফেরার পথে ডাকুয়া স্লুইস বাজারের কাছে হাসান মামুনের লোকজন পরিচয়ে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করতে পেরে কৌশলে তারা সেখান থেকে সরে যান। এসব ঘটনায় নিজের ও দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নুরুল হক নুর জানান, ঘটনার বিষয়গুলো তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পুলিশ সুপারকে মুঠোফোনে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত ১৮ জানুয়ারি হাসান মামুনের বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, নুরুল হক নুর তার কাছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি প্রার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালী-৩ আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবু বকর। নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুরো এলাকায় নজরদারি জোরদার করার দাবি উঠেছে।