চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশু মুহাম্মদ মেজবাহকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক।
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আবদুল মান্নান বলেন, শিশুটিকে রাত সোয়া ৮টার দিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটি রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম বলেন, আনুমানিক ৩০ ফুট নিচে গর্তে শিশুটি পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বিকেলে শিশুটি নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। ৫টা ২০ মিনিটের দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
এর আগে বুধবার বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে একটি গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ যানের মাধ্যমে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। ওই সময় ঘটনাটি নিয়ে সারা দেশে আলোচনা হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়রা টানা ৩২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ১১ ডিসেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। ওইদিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।