নির্বাচনী হালচাল (খুলনা-৪)
ভৈরব, চিত্রা ও রূপসা নদীর তীরবর্তী তিন উপজেলা—রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া—জুড়ে গঠিত খুলনা-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা তুঙ্গে। নদীঘেরা এই জনপদের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, সড়ক-সেতুর দুরবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবে দিনযাপন করছেন। এবারের ভোটে এসব বিষয়ই ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে। নির্বাচনী মাঠ ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে।
এ আসনে চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তার মধ্যে তিনজনই তাদের স্ব-স্ব দলের শীর্ষ নেতা। একজন স্বতন্ত্র। প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এস এম শাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন। নিজ নিজ প্রতীক ও অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। তারা উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা স্থানীয়রা এবার শব্দ নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চাইছেন।
রূপসা ও সেনের বাজার এলাকার ভ্যানচালক শাজাহান গাজী বলেন, ‘আমি এমন প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং এলাকায় প্রকৃত উন্নয়ন করবেন।’
বারাসাত এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত শেখ বলেন, ‘অনেক নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি শুনেছি, এবার শুধু কথা নয়, কাজ দেখতে চাই।’ কাটেঙ্গা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম বলেন, ‘যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ দরকার। মুখের কথা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চাই।’
নদীঘেরা কৃষক নিজাম খা যোগ করেন, ‘যিনি মাঠের মানুষের সমস্যা বোঝেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেন, তাকেই আমরা ভোট দেব।’
বিএনপি প্রার্থী এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘খুলনা-৪ আসনের বড় সমস্যা বেকারত্ব ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি। শেয়ারবাজার থেকে জেলখানাঘাট পর্যন্ত সেতু নির্মাণ, অসমাপ্ত সেতুর কাজ শেষ এবং ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করা আমার অঙ্গীকার।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ শেখ বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও লুটপাটে মানুষ অতিষ্ঠ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দেবেন।’
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির এস এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ক্ষমতার পালাবদল হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। যারা ক্ষমতায় গেছে তারা দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন বলেন, ‘সংসদ সদস্য পদ ক্ষমতার নয়, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়। ভোটাররা স্বাধীনভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।’
ভোটার সংখ্যা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা-৪ আসনে মোট ভোটার ৩,৭৮,৪৫৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৮৫,৯৬৮, নারী ভোটার ১,৮৮,০২০ এবং হিজড়া ভোটার পাঁচজন। ভোটগ্রহণ হবে ১৪৪টি কেন্দ্রে। প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ভোটাভুটি এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
খুলনা-৪ আসনের ভোটাররা বহু নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি শুনেছেন, কিন্তু বাস্তব উন্নয়ন খুব কমই পেয়েছেন। বিভাগীয় শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বড় কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। জেলখানাঘাট থেকে সেনের বাজার পর্যন্ত সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি। এবার ভোটাররা চাইছেন, প্রার্থীরা তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
নদীঘেরা এই আসনে ভোটাররা আশা করছেন, প্রার্থীরা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সেতুর সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে। নির্বাচনের ফলাফল দেখাবে, কার হাতে যাবে খুলনা-৪ আসনের মানুষের আস্থা।