নির্বাচনী হালচাল (পিরোজপুর-৩)
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হতে যাচ্ছে। হেভিওয়েট প্রার্থী, দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র ইমেজের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়েই এখন চলছে ভোটারদের রয়েছে নানান চিন্তা ভাবনা।
মাঠ জরিপ ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থীর মধ্যে। সবমিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে মঠবাড়িয়াবাসী।
বিএনপি: উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন দুলাল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে সাময়িকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করার মাধ্যমে সেই জটিলতার অবসান ঘটে। এর আগেও রুহুল আমিন দুলাল ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
এনসিপি: জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ড. শামীম হামিদী। তিনি একজন শিক্ষাবিদ। বর্তমানে তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-তে সহকারী অধ্যাপক এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা এবং মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (IIUM) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শামীম হামিদী এলাকায় একজন উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং নিয়মিত গণসংযোগ ও জনসভার মাধ্যমে প্রচারকার্য পরিচালনা করছেন।
নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তন ও ৫ আগস্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে লড়ছেন তিনি। তরুণ ভোটারদের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর হেভিওয়েট বলে কোনো শব্দ নেই। গত ১৭ বছর দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আমরা আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: এই আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি এবার লড়ছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে। তিনি প্রথম সংসদ সদস্য হন ১৯৯৬ সালে জাপার প্রার্থী হয়ে। ১৯৯৮ সালে জাপার ভাঙনে তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপিতে যান। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০১১ সালে সংসদ সদস্য হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের এমপিকে পরাজিত করেন। এ সময় তিনি পুনরায় জাপায় যোগ দেন। ২০১৮ সালে জাপার প্রার্থী হিসেবে মহাজোটের সমর্থনে তিনি সংসদ সদস্য হন। কিন্তু দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাপার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। এর জেরে গত বছর ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপা তাকে মনোনয়ন দেয়নি। স্বতন্ত্র নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হন। ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক ও অতীতে এলাকায় ৮০ শতাংশ উন্নয়ন কাজের দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার অর্থ-সম্পদ বা দলীয় ক্ষমতায় ভরসা নেই। আমি উন্নয়ন ও জনগণের ভালোবাসায় বিশ্বাসী।’
ত্রিমুখী লড়াইয়ের বাইরেও মাঠের সক্রিয় প্রার্থীরা:
জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে লড়ছেন মো. মাশরেকুল আজম রবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) থেকে ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকে করিম সিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তৌহিদুজ্জামান।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৪৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। বিপুল এই ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে প্রার্থীরা দিন-রাত চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ।