নির্বাচনী হালচাল (জয়পুরহাট-২)
জয়পুরহাট- ২ সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর- এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবারের ভোটের লড়াই কার্যত দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একাধিকবার এখানে বিজয় অর্জন করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সংগঠিতভাবে মাঠে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।
প্রথমদিকে এ আসনে বিএনপির মো. আব্দুল বারী, জামায়াতে ইসলামীর এসএম রাশেদুল আলম সবুজ এবং এবি পার্টির এসএ জাহিদ- এই তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
কিন্তু, গত ৩১ জানুয়ারি ১১ দলীয় জোটের এক জনসভায় এবি পার্টির প্রার্থী এসএ জাহিদ প্রকাশ্যে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে জয়পুরহাট-২ আসনে নির্বাচন এখন দুই প্রার্থীর সরাসরি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আসনটি ধরে রাখতে বিএনপি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা জোরদার করেছে। বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক, গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে। দলটির নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাঠে থাকছেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
এ আসনে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৪টি। মোট ভোটকক্ষ ৭১০টি- এর মধ্যে ৬৭৫টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন-এসব বিষয় এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কালাই উপজেলার এক কৃষক বলেন, ‘ফসলের ন্যায্য দাম আর সারের সংকট দূর হলে আমাদের উপকার হবে।’ এক নারী ভোটার বলেন, ‘নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। রাস্তাঘাট আর হাসপাতালের উন্নয়ন দরকার।’ তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ প্রত্যাশা করছেন।
বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারী একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সাবেক ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করব।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম সবুজ দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, কৃষি ও শিক্ষা খাতে নৈতিকতা, নারী নিরাপত্তা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের দলীয় ভোটব্যাংক, এবি পার্টির প্রার্থী সরে দাঁড়ানো, নারী ও তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব এবং কৃষি ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক প্রত্যাশাই এবারের ভোটের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
তাদের মতে, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বাস্তবসম্মত অঙ্গীকারই শেষ পর্যন্ত এই আসনের ফল নির্ধারণ করবে।