বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, বিশ্লেষণ ও সমীকরণ। দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র, তৃণমূল নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের আলোচনায় এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার গঠনপ্রক্রিয়া। অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য এসব বিবেচনায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্তত নয়জন নেতার নাম ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ময়মনসিংহ নগরীসহ নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও জামালপুর জেলায় রাজনীতিক, পেশাজীবী ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আলোচনায় উঠে আসে এসব নাম। প্রত্যাশা নতুন মন্ত্রিসভায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী স্থান পাবেন।
তৃণমূলের আলোচনায় যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রমিক নেতা মো. নজরুল ইসলাম খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
আলোচনায় রয়েছেন কারা নির্যাতিত নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, অভিজ্ঞ আইনজীবী ও বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিবেচনায় রশিদুজ্জামান মিল্লাত, দুঃসময়ে পরীক্ষিত নেতা শরীফুল আলম, আইন অঙ্গনে পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং তরুণ প্রকৌশলী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
নেত্রকোনা জেলার তেলিগাতী এলাকার বাসিন্দা ও ময়মনসিংহ নটর ডেম কলেজের শিক্ষক মো. আতিকুল বাশার বলেন, ‘শুধু ভাটি-বাংলা নয়, উজান-ভাটির ভূমিপুত্র নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বিগত সময়ে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আশা করছি এবারও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন।’
বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান, অতীতের প্রায় সব সরকারেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ফলে নতুন সরকারেও এ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূলের। তাদের মতে, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ময়মনসিংহ নগরীর থানার ঘাটের আসাদুজ্জামান জুয়েল আকন্দ, ৫নং সিরতা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আল মামুন, সিটি কর্পোরেশনের ৩১নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান লিখন সহ ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের অনেকে বলেন, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে হামলা-মামলা সহ্য করেছেন সদরের এমপি ওয়াহাব। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ আসনে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা চাই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
এ বিষয়ে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, ‘দল ও নবগঠিত সরকারে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি বিশ্বাস করি, ভঙ্গুর রাষ্ট্র মেরামতে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।’
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, ‘দল ও জনগণ আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। আমি কাজের মাধ্যমে দলের সুনাম করতে চাই। এর বেশি কোনো মন্তব্য নেই।’
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার নিজের কোনো প্রত্যাশা নেই, আমার প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে। সাংবিধানিকভাবে সরকারপ্রধান যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তিনিই মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকে মূল্যায়নের প্রবণতাও থাকতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নটিও গুরুত্ব পাবে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তাই অপেক্ষা কে পাচ্ছেন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব, আর কার কাঁধে উঠছে উন্নয়নের নতুন ভার। তৃণমূলের প্রত্যাশা, নতুন সরকারে এ অঞ্চল থেকে একাধিক যোগ্য প্রতিনিধি স্থান পেয়ে উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।