রমজান শুরু হতে না হতেই চট্টগ্রামের বাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও পণ্যের দাম বাড়ছে হুড়হুড় করে। ১০০ টাকা ছুঁয়েছে বেগুন ও শসার দাম। লেবুর হালি গিয়ে ঠেকেছে ১২০ টাকায়। ক্রেতার নাভিশ্বাস অবস্থা ফলের বাজারে। মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারেও অস্বস্তি। কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। তবে কিছুটা স্বস্তি ছড়াচ্ছে ডাল ও ছোলার দাম।
রমজানের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাছ, মাংস, সবজির দাম। বিশেষ করে লেবু, শসা, টমেটো আর বেগুনের দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
মান ও সাইজভেদে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আর বেগুন ও শসার দাম ছুঁয়েছে ১০০ টাকা।
নগরের কাজির দেউরি বাজারে সবজি কিনতে আসা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, রমজান শুরু হতেই প্রতিবছর দাম বাড়ে। বিশেষ করে লেবু-শসার আর বেগুনের দাম। তবে এবারে তো অন্যসব কিছুর দামও বাড়তি। একটা লেবুর দাম ৩০ টাকা। এটা ভাবা যায়?
আরেক ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজনীন সুপ্তি বলেন, সরবরাহ তো ঠিক আছে, বাজারে পণ্যও আছে। তারপরও কেনো দাম এত বেশি, এর কোনো উত্তর নাই। রমজান এলেই যেন কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ম হয়ে গেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা খুবই প্রয়োজন।
নগরের ঝাউতলা বাজারে লেবু, টমেটো ও শসা বিক্রেতা শফিক বলেন, ‘রমজানে লেবুর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে লেবু। তাই খুচরা বাজারেও দাম বেশি। পাইকারি বাজারে কমলে আমরাও কমে বিক্রি করতে পারব।’
ইফতারে বিশেষ চাহিদা থাকা ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। রমজানকে কেন্দ্র করে আপেল, আনার ও মাল্টার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে ফল কিনতে আসা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, প্রতিবছরই রমজান মাসে ইফতারে ফল রাখার চেষ্টা করি। তবে যেভাবে দাম বাড়ছে ফল কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাজারে মুরগির দাম গত এক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ১৫০–১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ব্রয়লার মুরগি। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কেজিতে।
ঝাউতলা বাজারের পোলট্রি ব্যবসায়ী মুরাদ জানান, ‘চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মুরগির সরবরাহ কম, খামারির কাছ থেকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে দামও বেড়েছে।’
মুরগির পাশাপাশি গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। হাড়সহ মাংস কেজিতে ৭৫০–৮০০ টাকা, হাড় ছাড়া ৯৫০–১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও প্রজাতিভেদে কেজিপ্রতি ৩০–৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
রমজানের প্রথম দিনেই এমন চড়া বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্রেতারা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অভিযান চলমান রাখা হয়েছে। রোজায় মাংস, সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’