সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার যমুনার চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘোড়ার মাংসসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, যমুনা নদীর চরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস কাজিপুর হয়ে ঢাকায় পাচার করা হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে কাজিপুর থানা পুলিশ রাতভর নদীর তীরবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।
পরবর্তীতে গভীর রাতে ঢাকায় পাচারের সময় একটি পিকআপ থেকে ১১টি বস্তায় রাখা প্রায় ৪০০ কেজি বোনলেস ঘোড়ার মাংসসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- মো. কাওছার আলী পলাশ (৩৫) ও মো. শরিফুল ইসলাম (৪৫)। তারা নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ডাংগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, তারা যমুনার চরে আটটি ঘোড়া জবাই করে প্রায় ৪০০ কেজি মাংস সংগ্রহ করেন এবং তা গাজীপুর এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নদী পার হয়ে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ভঙ্গের অপরাধে উভয়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আইনের ২৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবু সাইদ, সেকেন্ড অফিসার আলী আকবর এবং প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল আহাদ।
পরে জব্দ করা ঘোড়ার মাংস জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
উল্লেখ্য,এর আগেও একই পথে ঘোড়ার মাংস ঢাকায় পাচারের সময় অপরাধীদের আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।