রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের পুরানপাড়া (পুরানবস্তী) সংযোগ ব্রিজের পূর্ব পাশে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসাবে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক মানিকসহ ফজল আহমেদ, মো. খুকন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও সরকারি ছুটির দিনের সুযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে দখল ও ভরাট কার্যক্রম চালানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে হ্রদের তীর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক জলাধার সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি হ্রদের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার কারণেই অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে দখল কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও কেউ প্রতিবাদ বা বাধা দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের সমর্থন থাকায় সংশ্লিষ্টরা আইনের তোয়াক্কা করছেন না।
ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিবেদকের ওপর তেড়ে এসে হুমকি-ধমকি ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন অভিযুক্তদের কয়েকজন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শনের এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এটি শুধু অবৈধ দখলের বিষয় নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাপ্তাই হ্রদ পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক জলাধার ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। এর তীর দখল ও ভরাট অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়বে।
এ বিষয়ে রাঙামাটির সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।